রাজনীতিবিদদের বিপক্ষে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের প্রকাশ
সম্প্রতি নেপালে শুরু হওয়া বিক্ষোভের রক্তক্ষয়ী পরিণতি
নেপালে গত সপ্তাহে ঘটে যাওয়া ব্যাপক বিক্ষোভের ফলস্বরূপ, মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরকারের পতন ঘটেছে। তবে এই বিজয় আসতে হয়েছে চড়া মূল্য দিয়ে। বিক্ষোভের সংগঠকদের একজন তনুজা পান্ডে বলেন, “আমরা গর্বিত হলেও, এর সঙ্গে মানসিক আঘাত, অনুশোচনা ও ক্ষোভের মিশ্র বোঝাও যোগ হয়েছে।”
৭২ জনের মৃত্যু, দগ্ধ ভবন এবং ক্ষয়ক্ষতি
বিক্ষোভের সময় নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে সরকারি ভবন, রাজনৈতিক নেতাদের বাসভবন এবং বিলাসবহুল হোটেল হিলটনের মতো স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৭২ জন নিহত হন এবং প্রায় তিন লাখ কোটি নেপালি রুপি ক্ষতি হয়, যা দেশটির মোট জিডিপির প্রায় অর্ধেক।
শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা এবং জনগণের ক্ষোভ
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের উপদেষ্টা আশীষ প্রধান মন্তব্য করেন, এই বিক্ষোভ শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়বিরোধী জনগণের ক্ষোভের তীব্র প্রকাশ। তিনি আরও বলেন, এটি ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পরবর্তী সময়ের মতো সরকারি সেবার ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি করেছে।
তনুজা পান্ডে ও তরুণদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
২৪ বছর বয়সী পরিবেশকর্মী তনুজা পান্ডে তাঁর ভিডিও বার্তায় নেপালের সম্পদের মালিকানা জনগণের বলে উল্লেখ করেন এবং রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও জাতীয় সম্পদের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের আহ্বান জানান। “নেপালিদের সম্পদ আমাদের, রাজনীতিবিদদের প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির নয়,”—এমন মন্তব্য করেন তিনি।
নেপো বেবিজদের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ
নেপালের তরুণ সমাজের মধ্যে ‘নেপো বেবিজ’ (ক্ষমতাসীন রাজনীতিবিদদের সন্তান) এর প্রতি ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং অবৈধ সম্পদ প্রদর্শনের অভিযোগ উঠে এসেছে। বিশেষ করে প্রাদেশিক মন্ত্রী সৌগত থাপার বিলাসবহুল ছবি ভাইরাল হয়ে যায়, যার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি দাবি করেন, ছবিটি ‘ভুল ব্যাখ্যা’ করা হয়েছে।
বিক্ষোভের পরিণতি: তরুণদের দেশত্যাগের হুমকি
তনুজা পান্ডে বলেন, “এমনকি শিক্ষিত তরুণরাও দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন, কারণ এখানে যে বেতন দেওয়া হয়, তা সঠিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের চেয়ে অনেক কম।”
নেপালের গণতন্ত্রের স্থিতিশীলতা এখনও প্রশ্নবিদ্ধ
নেপালের গণতন্ত্র খুব পুরোনো নয়। মাওবাদীদের নেতৃত্বে এক দশকের গৃহযুদ্ধের পর ২০০৮ সালে নেপাল একটি প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়। তবে এরপর থেকে দেশে স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি আনার ক্ষেত্রে ব্যাপক ব্যর্থতা দেখা গেছে। গত ১৭ বছরে ১৪টি সরকার গঠিত হয়েছে, তবে কোনো সরকারই পূর্ণ পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ করতে পারেনি।
এই বিক্ষোভে নেপালের ভবিষ্যৎ কি?
তবে এক প্রশ্ন থেকেই যায়—এই বিক্ষোভের পর নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কি আরও উত্তপ্ত হবে, নাকি এটি শাসনব্যবস্থার সংস্কারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে?






